রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বেতপট্টি একসময় সরগরম থাকলেও, আজ ৮ই জুলাই ২০২৬ তারিখে তার জৌলুস অনেকটাই ম্লান। বর্তমানে হাতেগোনা মাত্র তিনটি বেতের দোকান কোনোমতে টিকে আছে, যার মধ্যে একটি হলো সত্তরোর্ধ্ব ফরিদুর রহমানের। জীবনের প্রায় ৭০টি বছর তিনি এই শিল্পকে আঁকড়ে ধরে আছেন, আর তাঁর মুখে দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম ও সংগ্রামের ছাপ স্পষ্ট।
ফরিদুর রহমান যৌবনের প্রারম্ভ থেকেই বেতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। প্রায় সাত দশক ধরে বাঁশ ও বেত দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং দৃষ্টিনন্দন জিনিস তৈরি করে আসছেন তিনি। তাঁর হাতের জাদুতে জীবন্ত হয়ে ওঠে বেতের ঝুড়ি, মোড়া, খেলনা ও গৃহসজ্জার নানা উপকরণ। তবে আধুনিকতার ছোঁয়া এবং প্লাস্টিকের সহজলভ্যতা এই প্রাচীন শিল্পকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বাজারে চাহিদা কমেছে, ফলে কমেছে কারিগরদের আয়ও।
শিল্পের প্রতি ফরিদুর রহমানের ভালোবাসা অসীম হলেও, তাঁর মনে গভীর হতাশা বাসা বেঁধেছে। তিনি এই ঐতিহ্যবাহী পেশার কোনো উত্তরসূরি খুঁজে পাচ্ছেন না। নতুন প্রজন্ম বেতশিল্পের কঠোর পরিশ্রম ও স্বল্প আয়ের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফরিদুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, "আমার পর হয়তো এই বেতের দোকানগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের হাতের তৈরি শিল্প কোথায় হারাবে, কে জানে!" এই সংকট শুধু তাঁর ব্যক্তিগত নয়, এটি রাজশাহীসহ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্পের এক অশনিসংকেত।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের উচিত এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও এর কারিগরদের পাশে দাঁড়ানো। আর্থিক সহায়তা, আধুনিক বিপণন কৌশল এবং নতুন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। ফরিদুর রহমানের মতো শেষ কারিগরদের সংগ্রামকে স্বীকৃতি দিয়ে যদি সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে খুব অচিরেই বেতশিল্পের মতো অনেক অমূল্য ঐতিহ্য কেবল ইতিহাসের পাতাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে, যা হবে এক অপূরণীয় ক্ষতি।