বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬ইং
আসুন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই

আপনার ক্ষুদ্র অনুদান আমাদের সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীন ও সোচ্চার রাখতে সাহায্য করবে।

ENG
সর্বশেষ
বন্যার ভয়াবহতা: ১১ জেলায় মধ্যরাতে বিজিবি মোতায়েন, জরুরি সতর্কতা রাঙামাটিতে গভীর রাতে আলোড়ন: ৫০০ বছরের পুরনো 'গুপ্ত নগরীর' উন্মোচন? তৈরি পোশাক শিল্পে সরকারের চরমপত্র: মধ্যরাতে উত্তাল বিজিএমইএ! প্রবল বর্ষণে থমকে ঢাকা-চট্টগ্রাম: জলমগ্ন সড়কে নাকাল জনজীবন প্রত্যন্ত জনপদে বিদ্যুৎ বিপ্লব: 'কমিউনিটি গ্রিন এনার্জি হাব'-এর ঝলক! দেশের প্রধান শহরগুলিতে উদ্বেগজনক বায়ুদূষণ: নীরব ঘাতকের বিরুদ্ধে জরুরি সতর্কতা! সুনামগঞ্জের হাওরে ভোররাতে রহস্যময় জলস্তর পতন: মহাবিপদে লাখো জীবন! সুন্দরবনের গভীরে রহস্যময় আলোর বিস্ফোরণ: ভোররাতে চমকে উঠেছে বিশ্ব! গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জে বিষাক্ত বর্জ্যের ভয়াবহ নিঃসরণ: জরুরি অবস্থা জারি, আতঙ্কে জনপদ! লবণাক্ততা জয়: উপকূলীয় কৃষিতে নতুন বিপ্লবের ঘোষণা!

৭০ বছর ধরে রাজশাহীর বেতশিল্পে ফরিদুর: উত্তরসূরি সংকটে ঐতিহ্য বিলুপ্তির শঙ্কা

৭০ বছর ধরে রাজশাহীর বেতশিল্পে ফরিদুর: উত্তরসূরি সংকটে ঐতিহ্য বিলুপ্তির শঙ্কা
বিডিবি নিউজ চিত্র রাজশাহী
বিডিবি নিউজ এর সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই সংবাদটি এবং এর সাথে ব্যবহৃত ছবিটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেট করা হয়েছে।

রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বেতপট্টি একসময় সরগরম থাকলেও, আজ ৮ই জুলাই ২০২৬ তারিখে তার জৌলুস অনেকটাই ম্লান। বর্তমানে হাতেগোনা মাত্র তিনটি বেতের দোকান কোনোমতে টিকে আছে, যার মধ্যে একটি হলো সত্তরোর্ধ্ব ফরিদুর রহমানের। জীবনের প্রায় ৭০টি বছর তিনি এই শিল্পকে আঁকড়ে ধরে আছেন, আর তাঁর মুখে দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম ও সংগ্রামের ছাপ স্পষ্ট।

ফরিদুর রহমান যৌবনের প্রারম্ভ থেকেই বেতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। প্রায় সাত দশক ধরে বাঁশ ও বেত দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং দৃষ্টিনন্দন জিনিস তৈরি করে আসছেন তিনি। তাঁর হাতের জাদুতে জীবন্ত হয়ে ওঠে বেতের ঝুড়ি, মোড়া, খেলনা ও গৃহসজ্জার নানা উপকরণ। তবে আধুনিকতার ছোঁয়া এবং প্লাস্টিকের সহজলভ্যতা এই প্রাচীন শিল্পকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বাজারে চাহিদা কমেছে, ফলে কমেছে কারিগরদের আয়ও।

শিল্পের প্রতি ফরিদুর রহমানের ভালোবাসা অসীম হলেও, তাঁর মনে গভীর হতাশা বাসা বেঁধেছে। তিনি এই ঐতিহ্যবাহী পেশার কোনো উত্তরসূরি খুঁজে পাচ্ছেন না। নতুন প্রজন্ম বেতশিল্পের কঠোর পরিশ্রম ও স্বল্প আয়ের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফরিদুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, "আমার পর হয়তো এই বেতের দোকানগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের হাতের তৈরি শিল্প কোথায় হারাবে, কে জানে!" এই সংকট শুধু তাঁর ব্যক্তিগত নয়, এটি রাজশাহীসহ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্পের এক অশনিসংকেত।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের উচিত এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও এর কারিগরদের পাশে দাঁড়ানো। আর্থিক সহায়তা, আধুনিক বিপণন কৌশল এবং নতুন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। ফরিদুর রহমানের মতো শেষ কারিগরদের সংগ্রামকে স্বীকৃতি দিয়ে যদি সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে খুব অচিরেই বেতশিল্পের মতো অনেক অমূল্য ঐতিহ্য কেবল ইতিহাসের পাতাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে, যা হবে এক অপূরণীয় ক্ষতি।

সর্বশেষ সংবাদ
বিডিবি নিউজ
অনুসন্ধান করুন