ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ৭২ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে তারা কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে শেষ আটে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গোলশূন্য ড্র থাকার পর ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে সুইসদের স্নায়ুচাপ সামলানোর অসাধারণ দক্ষতা জয় এনে দেয়। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ আটে পৌঁছাল সুইসরা, যা তাদের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর আবেগাপ্লুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন। জয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “এখনও পুরো বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছি না। আমরা যেন এখনও ম্যাচের সেই তীব্র আবহের মধ্যেই আছি। আজকের ম্যাচে অসাধারণ লড়াই, বুদ্ধিমত্তা ও ধৈর্যের প্রয়োজন ছিল, এবং আমার খেলোয়াড়রা তা পুরোপুরি সফল করে দেখিয়েছে। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকদের জন্য আমি ভীষণ খুশি। এটি এমন এক অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন।”
ম্যাচের কৌশল নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন ইয়াকিন। তিনি জানান, বিশেষ করে টাইব্রেকারের কথা মাথায় রেখেই কিছু বদলি খেলোয়াড়কে মাঠে নামানো হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি সফল প্রমাণিত হয়। ইয়াকিন আরও যোগ করেন, “শুরুর দিকে ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তা ও লড়াইয়ের প্রয়োজন ছিল। পরে কিছু পরিবর্তন এনে আমরা বলের নিয়ন্ত্রণ বাড়াই এবং টাইব্রেকারের জন্যও উপযুক্ত খেলোয়াড়দের মাঠে রাখার পরিকল্পনা ছিল। পরিকল্পনা সফল হলে আনন্দটা আরও বেশি হয়।” টাইব্রেকারে কলম্বিয়ার হয়ে দাভিনসন সানচেস ক্রসবারে বল মারেন এবং কুচো হার্নান্দেসের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের একমাত্র মিস করেন ম্যানুয়েল আকাঞ্জি।
জয়সূচক শেষ পেনাল্টি থেকে রুবিন ভার্গাস যখন গোল করেন, সেই মুহূর্তের অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে ইয়াকিন বলেন, “শেষ শটের আগে মাথার মধ্যে অসংখ্য দৃশ্য ঘুরছিল। বল জালে জড়াতেই যেন সবকিছু বিস্ফোরিত হলো! স্টেডিয়ামের সবাই একসঙ্গে উদযাপন করল। এটি সত্যিই অসাধারণ এক অনুভূতি, যা ভাষায় বোঝানো কঠিন।”
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা, যারা শেষ ষোলোতে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে। দুই দলের মধ্যকার এই রোমাঞ্চকর ম্যাচটি আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচে জয়ী দল উঠবে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে, যা আরও একটি ঐতিহাসিক অর্জনের হাতছানি দিচ্ছে সুইসদের সামনে।