২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ™ যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট গোল্ডেন বুটের লড়াই ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আজ, ৮ই জুলাই, ২০২৬ তারিখে, কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে এসেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে মেসি, কিলিয়ান এমবাপে এবং আর্লিং হালান্ড – এই তিন তারকা ৭টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন, যা এই প্রতিযোগিতার তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।
নকআউট পর্বে মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় ৩-২ গোলের জয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে মেসি তার গোলসংখ্যাকে আটে নিয়ে গেছেন। টুর্নামেন্টজুড়ে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। এর আগে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল, জর্ডানের বিপক্ষে ফ্রি-কিক থেকে একটি এবং কেপ ভার্দের বিপক্ষে আরও একটি গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। তার অসাধারণ ফিনিশিং ক্ষমতা এবং দলের কঠিন মুহূর্তে গোল করার দক্ষতা তাকে গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসির পথ মোটেই মসৃণ নয়। ফ্রান্সের গতিময় ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপেও আছেন দুর্দান্ত ছন্দে, ৭ গোল নিয়ে তিনি মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন। সেনেগাল, ইরাক ও সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোলের পাশাপাশি প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে তিনি নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়েছেন। একই সংখ্যক ৭ গোল নিয়ে তালিকার শীর্ষ সারিতেই রয়েছেন নরওয়ের বিস্ময়বালক আর্লিং হালান্ড। ব্রাজিলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে জোড়া গোল করে তিনি তার অভিষেক বিশ্বকাপ আসরেই নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন, যা তাকে দ্রুতই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারে পরিণত করেছে।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও ৬ গোল নিয়ে চতুর্থ স্থানে থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নকআউট পর্বে আরও কয়েকটি গোল করতে পারলে তিনিও শীর্ষ তিনজনকে টপকে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ শেষে যে খেলোয়াড় সর্বোচ্চ গোল করবেন, তিনিই জিতবেন গোল্ডেন বুট। তবে দুই বা ততোধিক ফুটবলারের গোলসংখ্যা সমান হলে প্রথমে বিবেচনা করা হবে কে কতটি অ্যাসিস্ট করেছেন। এতেও সমতা থাকলে, মাঠে কে কম সময় খেলেছেন, সেই অনুযায়ী বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। এই পদ্ধতি নিশ্চিত করে যে, শুধু গোল নয়, বরং সামগ্রিক অবদানও বিচার করা হয়।