আজ ভোরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিশরের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই কঠিন চাপে পড়ে ১-০ গোলে পিছিয়ে বিরতিতে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ইতিমধ্যেই শুরু হওয়া দ্বিতীয়ার্ধে সেই চাপ সামাল দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে মাঠে নেমেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। প্রথমার্ধের ভুলগুলো শুধরে এই অর্ধে দারুণ কিছু করে সমতায় ফেরার পাশাপাশি জয়ের লক্ষ্যেই ঝাঁপিয়েছে আর্জেন্টিনা।
অন্যদিকে, প্রথমার্ধের মূল আকর্ষণ ছিল মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইরের অসাধারণ পারফরম্যান্স। একের পর এক দুর্দান্ত সেভে তিনি আর্জেন্টাইন তারকাদের বারবার হতাশ করেছেন, যার ফলে দলের ১-০ গোলের লিড ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। যদিও একমাত্র গোলটি করেছেন ইব্রাহিম। কিন্তু প্রথমার্ধে সব ছাপিয়ে নতুন এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ রেকর্ড গড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে এমন রেকর্ড তিনিই প্রথম গড়লেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণের পর আক্রমণ শানাতে থাকে আর্জেন্টিনা। তবে মিশরের পাল্টা আক্রমণও ছিল যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। দ্বিতীয় মিনিটেই হাঁটুতে আঘাত পেলেও খেলা চালিয়ে যান এনজো ফার্নান্দেজ। চার মিনিটের মাথায় এক ট্যাকলে মিডফিল্ডার আশুরও আঘাত পেয়ে কিছুটা সময় মাঠেই শুয়ে ছিলেন। ষষ্ঠ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের একটি ভুল পাস থেকে সুযোগ পায় মিশর। জিকো বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণে গেলে ডান প্রান্তে হাসানকে ফাউল করে বসেন নিকোলাস তালিয়াফিকো। এর দুই মিনিট পর অষ্টম মিনিটে আত্তিয়ার বিপজ্জনক ক্রস লিসান্দ্রো মার্তিনেজ হেড করে বিপদমুক্ত করেন।
ম্যাচের ১১তম মিনিটেই গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। রদ্রিগো ডি পলের বাড়ানো বলে মাত্র দুই গজ দূর থেকে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করতে ব্যর্থ হন। অবশ্য পরে অফসাইডের পতাকা ওঠায় বড় বিপদ থেকে বেঁচে যান তিনি। এরপরই আসে সেই ১৭তম মিনিট। ডান দিক থেকে আত্তিয়ার দুর্দান্ত বাঁকানো ক্রসে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ অফসাইড ট্র্যাপ তৈরি করতে গিয়ে দ্বিধায় পড়েন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইব্রাহিম তাকে হেডে পরাস্ত করে বল আর্জেন্টিনার জালে জড়িয়ে মিশরকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পর লিওনেল মেসি অফসাইডের দাবি জানালেও রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলটি সম্পূর্ণ বৈধ ছিল।
গোল হজমের পাঁচ মিনিট পরই, অর্থাৎ ম্যাচের ২২তম মিনিটে সমতায় ফেরার সোনালি সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। বক্সের ভেতরে তালিয়াফিকোকে ফেলে দিলে রেফারি হাসানের বিরুদ্ধে পেনাল্টি দেন। কিন্তু স্পটকিক থেকে হতাশ করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার শক্তিহীন শটটি ছিল গোলপোস্টের মাঝামাঝি ডানদিকে। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর সঠিক দিক অনুমান করে সহজেই বল আটকে দেন। এরপরই পুরো স্টেডিয়ামে আনন্দের উল্লাস ফেটে পড়ে। এখন দেখার বিষয়, লিওনেল স্কালোনির দল এই কঠিন চাপ সামলে দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের সেরাটা দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা।