আজ বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ভোর ৪টা নাগাদ বাংলাদেশের কর্মসংস্থান সেক্টরে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে বিশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মাত্র ঘন্টাখানেক আগে ‘বৈশ্বিক ডিজিটাল কর্মীবাহিনী উদ্যোগ’ (Global Digital Workforce Initiative) নামের একটি অভূতপূর্ব মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এই যুগান্তকারী উদ্যোগের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের পাঁচ মিলিয়ন তরুণ-তরুণীকে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল কাজের বাজারের জন্য প্রস্তুত করা, যা দেশের বেকারত্ব নিরসন এবং অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই পরিকল্পনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের উচ্চমানের ডিজিটাল দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং, রিমোট জব এবং আউটসোর্সিংয়ের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের আওতায় অত্যাধুনিক কারিকুলাম, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষক এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। প্রাথমিকভাবে, এই প্রকল্পে ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার একটি বড় অংশ বিদেশি অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগের মাধ্যমে আসবে। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশা করছেন, এটি কেবল কর্মসংস্থান তৈরি করবে না, বরং বাংলাদেশের ‘ব্রেইন ড্রেন’ প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এই ঘোষণার পর থেকেই দেশের তরুণ সমাজ এবং বিভিন্ন মহলে ব্যাপক উদ্দীপনা ও আগ্রহ দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র কর্মকর্তা আজ সকালে জানান, “আমরা যেন ১০ মিটার মাটির গভীরে ছিলাম, সেখান থেকেই উঠে এসেছি। আমাদের তরুণ প্রজন্ম বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের মেধার প্রমাণ দেবে। এই উদ্যোগ কেবল কর্মসংস্থান নয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।” এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর সঙ্গেও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
প্রথম ধাপে এই উদ্যোগের আওতায় ১ লক্ষ তরুণ-তরুণীকে নিয়ে একটি পাইলট প্রোগ্রাম আগামী মাসেই শুরু হবে। এই পাইলট প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা এবং ফিডব্যাক পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে এই প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া যাবে এবং নির্বাচিতদের জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। আজ সকালে সরকারের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে, এই বিশাল লক্ষ্য পূরণে অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, মানসম্মত প্রশিক্ষক তৈরি এবং সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।