আজ শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, সকাল ৮:৩০ নাগাদ ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর একটি দীর্ঘ অংশে এক অভূতপূর্ব ও রহস্যময় রঙের পরিবর্তন দেখা গেছে। সদরঘাট থেকে শুরু করে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদীর পানি হঠাৎ করেই ধারণ করেছে এক গাঢ় বেগুনী ও কমলা মিশ্রিত অস্বাভাবিক আভা, যা গত এক শতাব্দীর বুড়িগঙ্গার ইতিহাসে নজিরবিহীন। এই বিস্ময়কর দৃশ্য চোখে পড়ার সাথে সাথেই স্থানীয় জনজীবনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মাঝি, জেলে এবং নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা এমন ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে পড়েছেন। অনেক নৌযান চালক অজানা আশঙ্কায় নদীতে চলাচল বন্ধ রেখেছেন, যার ফলে সদরঘাট এলাকায় নৌ চলাচলে তীব্র বিঘ্ন ঘটেছে।
খবরটি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE) এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (DG) ড. ফাহমিদা হক, যিনি প্রায় এক ঘণ্টা আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমরা এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখিনি। নদীর পানির নমুনা সংগ্রহ করে তা জরুরি ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে কোনো বড় শিল্প কারখানার বর্জ্য নিঃসরণের তাৎক্ষণিক প্রমাণ মেলেনি, তবে এই অস্বাভাবিক রঙ কোনো নতুন ধরণের রাসায়নিক দূষণ অথবা অত্যন্ত বিরল কোনো অণুজীবের প্রভাবে হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছি এবং খুব দ্রুত এর কারণ উদ্ঘাটন করতে বদ্ধপরিকর।”
এই রহস্যময় পরিবর্তনের ফলে নদীর বাস্তুতন্ত্র ও জনস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, গত কয়েক ঘণ্টায় তারা কোনো মাছ ধরেননি এবং নদীর পানি থেকে এক ধরণের অপরিচিত, তীব্র গন্ধ আসছে। অনেক বাসিন্দা সকাল থেকেই চোখে জ্বালাপোড়া ও শ্বাসকষ্টের অভিযোগ করেছেন। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, বুড়িগঙ্গার দীর্ঘদিনের দূষণের ইতিহাস থাকলেও, এমন দ্রুত ও তীব্র রঙের পরিবর্তন এক নতুন এবং মারাত্মক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি এটি কোনো বিষাক্ত রাসায়নিকের ফল হয়, তাহলে তা ঢাকার পানি সরবরাহ এবং সামগ্রিক পরিবেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার আশা করছেন।