আজ, ৮ই জুলাই ২০২৬ তারিখে, ফুটবল বিশ্বের কিংবদন্তি লিওনেল মেসি যেন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে নিজের নতুন ইতিহাস লেখার মঞ্চে পরিণত করেছেন। ৮ বারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা তার যাদুকরী পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলার পথে ব্যক্তিগত অর্জনের খাতা আরও সমৃদ্ধ করে চলেছেন। গত সপ্তাহে মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর নাটকীয় ৩-২ গোলের জয়ে গোল করে তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যা হয়তো দীর্ঘদিন অক্ষত থাকবে।
চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির ষষ্ঠ আসর, যা তার ক্যারিয়ারের সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপও। কিন্তু বিদায়ের আগে প্রতিটি ম্যাচেই নতুন ইতিহাস লিখছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তার নামের পাশে শোভা পাচ্ছে এই বিশ্বকাপের ৮টি গোল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং একটি নতুন বিশ্বরেকর্ড। মেসি ইতোমধ্যেই জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার দীর্ঘদিনের ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি ক্লোসাকে পেছনে ফেলেন, এরপর জর্ডান, কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে গোল করে নিজের সংগ্রহ নিয়ে গেছেন ২১-এ। এবারের বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল, জর্ডানের বিপক্ষে ফ্রি-কিক, কেপ ভার্দের বিপক্ষে একটি এবং মিশরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সমতাসূচক গোল করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক নিজেকে ইতিহাসের পাতায় আরও উঁচুতে স্থাপন করেছেন।
মেসির রেকর্ড ভাঙা-গড়ার মহোৎসব এখানেই থামেনি। মিশরের বিপক্ষে গোল করে তিনি টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে জালের দেখা পেয়েছেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক অনন্য কীর্তি। এর আগে কোনো ফুটবলার এমন ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। এছাড়া, তিনি ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিলের গড়া এক বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ আট গোলের রেকর্ডটিও স্পর্শ করেছেন। আরেকটি বিরল রেকর্ডও এখন এই জাদুকরের দখলে: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা ছয় ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার তিনি। চলতি বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম মাঠে নেমেই ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন মেসি, যা বিশ্ব ফুটবলে খুবই বিরল ঘটনা।
তবে, এই রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে মেসির সবচেয়ে বড় হুমকি হতে পারেন ফ্রান্সের তরুণ তারকা কিলিয়ান এমবাপে, যার বিশ্বকাপের মোট গোল এখন ১৮। মাত্র ২৭ বছর বয়সী এমবাপের সামনে ভবিষ্যতে মেসির রেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বর্তমান মুহূর্তে মেসি তার বিদায়ী বিশ্বকাপে যা করে দেখাচ্ছেন, তা কেবল সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না; এটি ফুটবলের প্রতি তার নিবেদন, অবিরাম চেষ্টা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক জ্বলন্ত প্রমাণ, যা তাকে ফুটবলের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।