গতকাল রাতে এক নাটকীয় লড়াই শেষে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে মিশর। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হার মানতে বাধ্য হয়েছে আফ্রিকার দলটি। আজ বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই মর্মান্তিক পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই মিশরীয় অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ রেফারিং নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও তার কথায় ছিল স্পষ্ট হতাশা ও অভিমানের সুর।
গণমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে না দিয়ে সালাহ কেবল বলেছেন, “রেফারিং নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। কী হয়েছে, সেটা সবাই দেখেছে।” তাঁর এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যই মিশরীয় শিবিরে চাপা ক্ষোভের ইঙ্গিত বহন করছে। দলটির দাবি, দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তাফা জিকোর একটি গোল ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল করা হয় এবং তাদের পক্ষে একটি স্পষ্ট পেনাল্টিও দেওয়া হয়নি। এই প্রসঙ্গে ৩৪ বছর বয়সী সালাহ যোগ করেন, “আমাদের একটি গোল বাতিল হয়েছে, একটি পেনাল্টিও পাইনি। এরপর তারা পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করেছে। তবে এটা আল্লাহর ইচ্ছা ছিল।”
অধিনায়কের মতে, ম্যাচের ভাগ্য এবং ফল এমনই ছিল, যদিও মিশর প্রথমার্ধে দুর্দান্ত খেলেছে এবং দ্বিতীয়ার্ধের বেশিরভাগ সময়ও ভালো পারফর্ম করেছে। কয়েকটি ছোট ভুলের সঙ্গে রেফারিং বিতর্ক ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন মিশর সমর্থকরা। এই বিশ্বকাপে মিশরের পাঁচটি ম্যাচেই খেলেছেন দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা সালাহ, একটি গোল এবং দুটি অ্যাসিস্টের মাধ্যমে দলের সাফল্যে অবদান রেখেছেন। এটি ছিল বিশ্বকাপে মিশরের ইতিহাসে সেরা অভিযান, যা দলটিকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেবে।
তবে, ৬৬ গোল নিয়ে জাতীয় দলের হয়ে আলো ছড়ানো মোহাম্মদ সালাহর জন্য এটিই হয়তো শেষ বিশ্বকাপ অভিযান ছিল। বিদায়বেলায় তিনি বলেন, “আমরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলেছি এবং জানতাম এটি খুব কঠিন ম্যাচ হবে। আমরা দারুণ প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, সেটি ম্যাচের শুরুতেই বোঝা গেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহ আমাদের জন্য এটাই নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। এই বিশ্বকাপে যা অর্জন করেছি, সেটার ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতের জন্য এগিয়ে যাবো।”