জামালপুরে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় ৩১ পিস ইয়াবা ও নগদ ২৪ হাজার টাকাসহ যুবদল নেতা ইমন সরকার (সুমন) গ্রেফতার হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন, যা স্থানীয় রাজনীতি ও জনমহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মাদকের বিস্তার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার গভীর রাতে সদর উপজেলার ৫ নম্বর ইটাইল ইউনিয়নের দেবের বাজার এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালায় নরুন্দি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। এই অভিযানেই হাতেনাতে আটক করা হয় যুবদলের এই নেতাকে। আটকের সময় তার কাছ থেকে মোট ৩১ পিস ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির অভিযোগে নগদ ২৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশের দাবি। এই ঘটনা মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতিরই একটি প্রতিফলন।
গ্রেফতারকৃত ইমন সরকার (সুমন) সদর উপজেলার শৈলেরকান্দা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে ৫ নম্বর ইটাইল ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। নরুন্দি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) এ.টি.এম. মাহমুদুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, "ইমন সরকারের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে আমরা সফল হয়েছি।"
পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদুল হক আরও নিশ্চিত করেন যে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করার পর বিজ্ঞ বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই ঘটনা একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্য তুলে ধরেছে, তেমনি অন্যদিকে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রবণতা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।